শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ জামায়াতের
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপও কামনা করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই প্রিসাইডিং অফিসাররা এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফলের শিটে স্বাক্ষর নিয়েছেন।
পরওয়ার বলেন, ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষ হওয়ার পর ফলাফলের শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর করার কথা। কিন্তু সকালেই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, যা গুরুতর অনিয়ম।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে জামায়াতের এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট দেওয়া হচ্ছে। শেরপুরের কয়েকটি কেন্দ্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এই জামায়াত নেতা বলেন, কিছু স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্রে ঢুকে হামলা চালিয়েছে এবং ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনি দাবি জানান, ‘যেসব কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, সেগুলোর ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।’
একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং ও রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, এভাবে নির্বাচন হলে থাকলে ভোটারদের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হবে না এবং জনগণ এমন ফলাফল মেনে নেবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, এহছানুল মাহবুব যোবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের ভোট হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসনে নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসন তিনি ছেড়ে দেওয়ায় এখন সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। আর তপশিল ঘোষণার পর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল।
কমেন্ট বক্স